🔄 রিলোড হচ্ছে...
Today | আজ | اليوم
🌤️ ঢাকা: ২৮°C
🔴 ব্রেকিং
🔴 বাংলাদেশের বেকারত্ব: শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট, অল্প পুঁজিতে ব্যবসা কি হতে পারে বিকল্প?🔴 বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের অবদান ৮.৫২ শতাংশ, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি কতটা যৌক্তিক?🔴 🧠মানুষের মস্তিষ্কে চিপ! চিন্তার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কম্পিউটার🔴 মজুরি বোর্ডের আশ্বাসে কাটছে অসন্তোষ, কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে!🔴 গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি, গঠন হলো নতুন মজুরি বোর্ড
← ফিরে যান জাতীয়

বাংলাদেশের বেকারত্ব: শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট, অল্প পুঁজিতে ব্যবসা কি হতে পারে বিকল্প?

✍️ Abdur Rahaman Ashik • 🕐 04 Nov 2026
বাংলাদেশের বেকারত্ব: শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট, অল্প পুঁজিতে ব্যবসা কি হতে পারে বিকল্প?

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক (AR) Ashik .

প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬

বেকারত্বের চিত্র

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় অনেক তরুণকে দীর্ঘদিন বেকার থাকতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, প্রচলিত সংশোধিত হিসাবপদ্ধতিতে দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ছিল ৩.৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল ১৩.৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও অনেক তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে। এ খাতে অনেক মানুষের কাজ থাকলেও আয়, চাকরির নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা সীমিত।

কেন বাড়ছে কর্মসংস্থানের সংকট?

১. শিক্ষার সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য।

২. নতুন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া।

৩. কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতার ঘাটতি।

৪. চাকরির তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়া।

৫. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পুঁজি ও সহজ ঋণ পাওয়ার সীমাবদ্ধতা।

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা: নতুন সম্ভাবনার পথ

চাকরির বাজারে চাপ বাড়তে থাকায় আত্মকর্মসংস্থান হতে পারে বিকল্প একটি পথ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসা, অনলাইন বাণিজ্য ও সেবাভিত্তিক উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

অল্প পুঁজিতে যেসব উদ্যোগ শুরু করা সম্ভব:

- মোবাইল এক্সেসরিজ ও ছোট ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রি।

- অনলাইন পোশাক ও পণ্য রিসেলিং।

- ঘরে তৈরি খাদ্য ও মসলা পণ্য বিক্রি।

- ডিজিটাল সেবা ও অনলাইন ফরম পূরণ।

- কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও নার্সারি।

- স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য সরবরাহ ও হোম ডেলিভারি।

তবে ব্যবসা শুরু করলেই লাভ নিশ্চিত নয়। বাজার যাচাই, পণ্যের মান, ক্রেতার চাহিদা এবং সঠিক হিসাব-নিকাশের ওপর ব্যবসার সফলতা নির্ভর করে।

সরকারের করণীয়

বেকারত্ব মোকাবিলায় শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাস্তবমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর সহায়তা।

একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ বাড়ানো জরুরি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রশিক্ষণ এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে অনেক তরুণ নিজের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি অন্যদেরও কাজের সুযোগ দিতে পারবেন।

উপসংহার

বেকারত্ব শুধু একজন ব্যক্তির সমস্যা নয়; এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই—দেশের তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করতে আমরা কতটা প্রস্তুত?

💬 মন্তব্য

মন্তব্য করতে অনুগ্রহ করে লগইন করুন।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী আপনিই হোন!